অন্ধ হয়েও আজ ৫০ কোটি টাকার মালিক, বেকারদের জন্য খুলেছেন কোম্পানি,শ্রীকান্তের জীবন হার মানাবে সিনেমার গল্পকে

 

Advertisement

আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ রয়েছেন যারা জন্ম থেকেই নানা শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন শ্রীকান্ত বোল্লা। শ্রীকান্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনমের সীতারামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকান্তের বাবা-মা পেশাগত দিক থেকে ছিলেন একজন কৃষক। পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য কৃষিকাজই ছিল একমাত্র তাদের সম্বল।

Advertisement

অভাবের সংসারে শ্রীকান্তকে বড়ো করে তোলা ছিল তাদের মধ্যে খুবই কষ্টকর। এর মাঝে তাদেরকে বহু মানুষ বহু রকম ভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন কিন্তু তাদের কথায় শ্রীকান্তের বাবা-মা কর্ণপাত না করে নিজেদের ছেলেকে নিজেদের মতো বড় করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন এবং বড় হয়ে শ্রীকান্ত সকলকে প্রমাণ করে দেয় যে তার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।

Advertisement

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছিল শ্রীকান্ত। অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিকে দুর্দান্ত ফল করেছিল কৃষক পরিবারের এই ছেলেটি। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেয়‌ কিন্তু অন্ধ হওয়ার জন্য তাকে নাকচ করে দেওয়া হয়। এরপর সে আদালতের দ্বারস্থ হয়। শ্রীকান্তের মামলায় আদালত সায় দেয়। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয় যে পড়াশোনা সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্ব। কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা চলাকালীন কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার স্কুল কর্তৃপক্ষ নেবে না।

Advertisement

স্কুল পাশ করে শ্রীকান্ত পরবর্তীকালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি তে পড়ার সুযোগ পান। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার জন্য তাকে বাতিল করে দেওয়া হয় সেখান থেকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এরপর আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি তে প্রথম আন্তর্জাতিক অন্ধ ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর সেখানেই কর্পোরেট কাজ করেন তিনি।

Advertisement

কিছু বছর সেখানে কাজ করার পর দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছে নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন তিনি। তখন নতুন কোনো কিছু শুরু করার অর্থ তার কাছে ছিল না। তখনই তার সাহায্যের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারতের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী রতন টাটা। রতন টাটার সাহায্যের দরুন শ্রীকান্ত নতুন শিল্প শুরু করেছিলেন।

Advertisement

এরপর কিছু বছরের মধ্যেই তার কঠোর পরিশ্রম এবং বুদ্ধির জেরে সেই শিল্প ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। শ্রীকান্ত নিজের কোম্পানিতে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি জানা গিয়েছে খুব শীঘ্রই তার জীবনের কাহিনী নিয়ে তৈরি হবে বায়োপিক। বর্তমানে তিনি বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। শারীরিক অক্ষমতা কে হার মানিয়ে কিভাবে সফল হওয়া যায় তার বাস্তব উদাহরণ শ্রীকান্ত বোল্লা।

Advertisement

Advertisement

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button